ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত নাগাদ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সে কারণে পায়রা ও মোংলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে মধ্যরাত নাগাদ।

যেসব জেলায় দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো : খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং অদূরবর্তী দ্বীপ এলাকা। এসব জেলা আঘাতের সবচেয়ে ঝূঁকিতে রয়েছে।

“ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে আজ বিকেল তিনটা থেকে চৌদ্দটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত সহ দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। এটি যতই উপকূলের দিকে আসবে ততই দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাবে,” ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত নাগাদ সময়ে মোংলার কাছ দিয়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এর ইরে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। প্রবল ঘূর্নঝড়ের অগ্রবতী অংশের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ৮-১০ ফুট জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসও হতে পারে।

রেমাল-এর গতিবেগ সম্বন্ধে মি. রহমান ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ হতেও পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াজনিত সতর্ক সংকেতের মাপকাঠিতে এটাই সর্বোচ্চ সংকেত।

দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত মানে হল ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমকালে বন্দর ঝড়ের তীব্রতার কবলে পড়তে পারে। বন্দরের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়েই ঝড় উপকূল অতিক্রম করবে।

এরপরে রয়েছে ১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত, যার মানে আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

রেমাল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ– বালি। এটি ওমানের দেয়া নাম।

তবে, রেমাল নামে আফগানিস্তানে একটি শহর আছে। সেই শহরের নামানুসারেই এটির নামকরণ করা হয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।

ট্যাগ:

সারাদেশে সাদপন্থীদের কার্যক্রম বন্ধ এবং বিচারের দাবীতে ওলামা মাশায়েখদের সংবাদ সম্মেলন

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি

প্রকাশঃ 11:27:44 am, Sunday, 26 May 2024

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত নাগাদ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সে কারণে পায়রা ও মোংলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে মধ্যরাত নাগাদ।

যেসব জেলায় দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো : খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং অদূরবর্তী দ্বীপ এলাকা। এসব জেলা আঘাতের সবচেয়ে ঝূঁকিতে রয়েছে।

“ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে আজ বিকেল তিনটা থেকে চৌদ্দটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত সহ দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। এটি যতই উপকূলের দিকে আসবে ততই দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাবে,” ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত নাগাদ সময়ে মোংলার কাছ দিয়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এর ইরে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। প্রবল ঘূর্নঝড়ের অগ্রবতী অংশের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ৮-১০ ফুট জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসও হতে পারে।

রেমাল-এর গতিবেগ সম্বন্ধে মি. রহমান ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ হতেও পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াজনিত সতর্ক সংকেতের মাপকাঠিতে এটাই সর্বোচ্চ সংকেত।

দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত মানে হল ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমকালে বন্দর ঝড়ের তীব্রতার কবলে পড়তে পারে। বন্দরের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়েই ঝড় উপকূল অতিক্রম করবে।

এরপরে রয়েছে ১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত, যার মানে আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

রেমাল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ– বালি। এটি ওমানের দেয়া নাম।

তবে, রেমাল নামে আফগানিস্তানে একটি শহর আছে। সেই শহরের নামানুসারেই এটির নামকরণ করা হয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।